ভাষা আন্দোলনের শহীদদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ভাষা আন্দোলনের শহীদদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
The Brief Identification of the Martyars of the 21st February

একুশে ফেব্রুয়ারির বীর শহীদদের পরিচয় ও সংখ্যা নিয়ে যথেষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে। কারণ আন্দোলনের তীব্রতায় ও পুলিশের বর্বর হত্যাকাণ্ডের ফলে বহু নেতা-কর্মী আত্মগােপনে যাওয়ার ফলে লাশের পরিচয় জানা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বহু নেতা আত্মগােপনে যাওয়ার ফলে হাসপাতাল থেকে সঠিক সংবাদ জানা যায় নি। কারণ পুলিশ হাসপাতাল ও বিভিন্ন স্থান থেকে লাশ সরিয়ে ফেলে এমন অভিযােগ পাওয়া যায়। তবে সরকারি ভাষ্যমতে, একুশে ফেব্রুয়ারি ও পরবর্তীকালে ৬ জন শহীদ হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া যায়। নিম্নে একুশে ফেব্রুয়ারি ও পরবর্তী সময়ে শহীদদের প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলাে :

১. শহীদ রফিক উদ্দীন আহমদ :
২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম শহীদ হচ্ছেন রফিক উদ্দীন আহমদ। তখন তার বয়স ছিল উনিশ বা বিশ। তিনি মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজে আই. কম, দ্বিতীয়বর্ষে পড়তেন। তবে তার ঢাকায় আসার কোনাে কারণ জানা যায়নি। তাকে আজিমপুর কবর স্থানে অরক্ষিত এলাকায় দাফন করা হয়েছে। পরবর্তীতে তার কবর সংরক্ষণের কোনাে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় নি বলে তার কবর এখন আর চিহ্নিত করা যায় না।

২. শহীদ আবুল বরকত :
শহীদ আবুল বরকতের জন্ম ১৯২৭ সালের ১৬ জুন মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি মহকুমার ভরতপুর থানার বাবলাতলে। তার পিতার নাম শামসুজ্জোহা। স্থানীয় তালিবপুর হাইস্কুল থেকে তিনি ১৯৪৫ সালে ম্যাট্রিক এবং বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। দেশবিভাগের পর ১৯৪৮ সালে পূর্ববাংলায় চলে আসেন। ঢাকায় আবদুল মালেক নামে এক মামা থাকতেন। তিনি তার বাসায় শহীদ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ছিলেন। এখানে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে ভর্তি হন। তিনি অত্যন্ত মনােযােগী ছাত্র ছিলেন। ১৯৫১ সালে তিনি অনার্স পরীক্ষায় ২য় শ্রেণিতে ৪র্থ স্থান লাভ করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১০ টার দিকে মালেক সাহেবের প্রচেষ্টায় তার লাশ কড়া পুলিশ পাহারায় আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার মামা আবদুল মালেক আজিমপুর কবরস্থানে তার কবরের জন্য জমি কিনে দেন এবং পরিবারের তত্ত্বাবধানে কবর পাকা করে দেয়া হয়।

৩. শহীদ আবদুল জব্বার :
মহান ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ আবদুল জব্বার পেশায় ছিলেন একজন দর্জি। তিনি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁওয়ের পাঁচাইয়া গ্রামের আবদুল কাদেরের পুত্র।

৪. শহীদ অহিউল্লাহ :
শহীদ অহিউল্লাহর বয়স ছিল মাত্র ৮/৯ বছর। তার পিতা হাবিবুর পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। অহিউল্লাহ ২২ ফেব্রু নবাবপুর রােডে খােশমহল রেস্টুরেন্টের সামনে হঠাৎ মাথায় রাইফেলের গুলি লেগে নিহত হয় এবং তার লাশ অপসারিত হয়।

৫. শহীদ শফিউর রহমান :
শহীদ শফিউর রহমান হাইকোর্টের একজন কর্মচারী ছিলেন। তিনি ১৯১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার কোন্নগর গভর্নমেন্ট কলেজ থেকে আই. কম, পাস করার পর চাকরি নেন। দেশ বিভাগের পর তিনি স্ত্রী আকিলা বেগম ও পরিবারের অন্য সদস্যসহ ঢাকায় আসেন এবং হাইকোর্টে চাকরি পান। তিনি ২২ ফেব্রুয়ারি অফিসে যাওয়ার পথে নবাবপুর রােডে গুলিবিদ্ধ হন। অনেক ধরাধরির পর শফিউরের পরিবার লাশের কফিন পরিয়ে দেয়ার অনুমতি পায়। রাত ৩টায় আজিমপুরে তাকে দাফন করা হয়। তার সমাধি আজিমপুর গােরস্থানে রক্ষিত আছে।

৬. শহীদ আবদুস সালাম :
ভাষা শহীদ আবদুস সালামের গ্রামের বাড়ি নােয়াখালী জেলার ফেনী মহকুমার লক্ষণপুর গ্রামে। তার পিতার নাম মােহাম্মদ ফাজিল মিয়া। তিনি ২১ ফেব্রুয়ারি গুলিবিদ্ধ হন। তবে শাহাদাত বরণ করেন ১৯৫২ সালের ৭ এপ্রিল। তিনি পূর্ব পাকিস্তান সরকারের ডাইরেক্টরেট অব ইন্ডাস্ট্রিজে (ইডেন বিল্ডিংয়ে) পিয়নের কাজ করতেন। ঢাকায় ৩৬, বি নীলক্ষেত ব্যারাকে বাস করতেন। তার মৃতদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

দেখুনঃ

স্বাধীনতা দিবস অনুচ্ছেদ রচনা

বঙ্গবন্ধুর জীবনী অনুচ্ছেদ রচনা | ছোটদের বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচনা

একুশে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে ১০ টি বাক্য

একুশে ফেব্রুয়ারি অনুচ্ছেদ রচনা- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অনুচ্ছেদ রচনা

একুশে ফেব্রুয়ারি কবিতা, স্ট্যাটাস, ছন্দ, ছবি এবং ক্যাপশন

24 Update

My name is Sumon. I am a small content Writer. I like blogging a lot. I always try to write about new things. And we help everyone there with a variety of information. I hope you like my writing a lot.

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close