ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ভাষা সৈনিকদের পরিচিতি

Participants of the Language Movement

ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ভাষা সৈনিকদের পরিচিতি
Identification of the Participants of the Language Movement

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে যে সব বাঙালি বীর সন্তানরা অংশ নিয়েছিল তাদেরকে আমরা ভাষা সৈনিক বলে অভিহিত করে থাকি। ভাষা শহীদদের মতাে ভাষা সৈনিকদের প্রতিও রয়েছে আমাদের অপরিসীম শ্রদ্ধা। আমাদের দেশের তৎকালীন সকল বড় শহরে এমন কী মফস্বল শহরে ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল। তাই সারা দেশে বায়ান্নর ভাষা সৈনিকের অবস্থান। অনেক ভাষা সৈনিক ইতােমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন।

আবার অনেক ভাষা সৈনিক এখনাে আমাদের মাঝে জীবিত আছেন। তারা ১৯৫২ সালের পর থেকে নানাভাবে ভাষা আন্দোলনের কাহিনী বর্ণনা করে আসছেন। প্রতি বছরই আমাদের দেশে যথার্থ মর্যাদায় ৫২’র ভাষা শহীদের স্মরণ করা হয়। তাদের স্মরণসভায় আমাদের ভাষা সৈনিকরা নানাভাবে আমাদের আজকের প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের বীরত্বের কাহিনী তুলে ধরছেন।

ভাষা সৈনিকদের মধ্যে যারা উল্লেখযােগ্য তারা হলেন শামসুল হক (আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম সাধারণ সম্পাদক, যিনি বিশেষ করে টাঙ্গাইলের শামসুল হক নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন, ১৯৫১ সালে এই তরুণ ছাত্রনেতা টাংগাইলের উপ নির্বাচনে করটিয়ার জমিদার খুররম খান পন্নীকে পরাজিত করে আইনসভার সদস্যপদ লাভ করেছিলেন), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ছয়দফা দাবি উত্থাপনকারী,

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামী, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও বাঙালি জাতির জনক), গাজীউল হক, আবদুল মতিন (ভাষা মতিন হিসেবে সমধিক পরিচিত), অলি আহাদ (পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা), অধ্যাপক আবুল কাসেম (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক), অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক),

নূরুল হক ভূইয়া, শামসুল আলম, মােহাম্মদ তােয়াহা, কাজী গােলাম মাহবুব (কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি), আবদুল গাফফার চৌধুরী (বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক ও সাহিত্যিক এবং একুশের গান-‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানাে একুশে ফেব্রুয়ারি’র রচয়িতা), মাহবুবুল আলম চৌধুরী (একুশ নিয়ে প্রথম কবিতা রচনাকারী, চট্টগ্রামের বিশিষ্ট সাংবাদিক), নঈমুদ্দিন আহমদ (পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক),

মােহাম্মদ তােয়াহা (কমিউনিস্ট পার্টির প্রখ্যাত নেতা), আবুল খায়ের, আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী, আবুল মনসুর আহমদ (রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক, আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর গ্রন্থের রচয়িতা), ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ (বহু ভাষাবিদ), কল্যাণ দাস গুপ্ত, মহিউদ্দিন আহমদ (রাজনীতিক), তাজউদ্দিন আহমদ (স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী), আবদুল ওদুদ (তৎকালীন ঢাকা নগর ছাত্রলীগের সভাপতি), এ কে এম আহসান,

খালেক নেওয়াজ খান (পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমীনকে পরাজিত করে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন), খান সাহেব ওসমান আলী (নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট পাট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ, ব্রিটিশ সরকার জনহিতকর কাজের জন্য খান সাহেব উপাধি প্রদান করেন), গােলাম মাওলা, হেদায়েত হােসেন চৌধুরী, কমরুদ্দিন আহমেদ, শাহাবুদ্দিন আহমদ (সাবেক প্রধান বিচারপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা),

হাবিবুর রহমান শেলী (সাবেক প্রধান বিচারপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা), এম আর আখতার মুকুল (স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের চরমপত্র পাঠকারী), হাসান হাফিজুর রহমান (বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাহিত্যিক), আবুল মাল আবদুল মুহিত (বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী), মুস্তফা নূরউল ইসলাম, আহমদ রফিক, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (কবি ও সাহিত্যিক), আবদুস সামাদ আজাদ (রাজনীতিবিদ ও মন্ত্রী),

কমরুদ্দিন শহুদ, রণেশ দাস গুপ্ত, ধরল রায়, শওকত আলী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম (অস্থায়ী সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি), জিলুর রহমান (বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি) আবদুল হামিদ (বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি), বােরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর (পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও সাহিত্যিক), মাহবুব জামান জাহেদী, শওকত আলী (মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ১৫০ নম্বর মােগলটুলি হাউজের মালিক) প্রমুখ। ভাষা সৈনিকদের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ও মহিউদ্দিন ভাষা আন্দোলন চলাকালে জেলখানায় বন্দী ছিলেন।

এরা দু’জন জেলখানায় বসে ভাষা আন্দোলনের পক্ষে অনশন আরম্ভ করেছিলেন। ভাষা আন্দোলন চলাকালীন সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান ও মহিউদ্দিন আহমদ উভয়কে ফরিদপুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছিল। কারণ পাকিস্তান সরকারের একটি ভীতি ছিল যে, শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকা কারাগারে রাখা হলে আন্দোলনের তীব্রতা আরাে বৃদ্ধি পেতে পারে।

এখানে উল্লেখ্য যে, ভাষা সৈনিকদের প্রায় সকলেই ছিল বয়সে তরুণ। এদের অধিকাংশ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। তারা বেশিরভাগই ছিলেন মফস্বল এলাকা থেকে আগত। এসব ভাষা সৈনিকদের উপর যাদের সমর্থন ছিল তারা হলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী (আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও পরবর্তীকালে ন্যাশনাল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা), শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক (অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী, লাহাের প্রস্তাবের উপস্থাপক, পূর্ব বাংলার গভর্নর ও কৃষক প্রজা আন্দোলনের নেতা যিনি বাংলার সাধারণ মানুষের কাছে প্রিয় হক সাহেব হিসেবে পরিচিত ছিলেন),

ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ (বহু ভাষাবিদ ও পণ্ডিত), ড. কাজী মােতাহের হােসেন (শিক্ষাবিদ), আবুল হাশিম (অবিভক্ত বাংলা মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক), মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ (ভাষা আন্দোলন চলাকালীন সময়ে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের সদস্য ছিলেন ও ভাষা আন্দোলনের প্রতিবাদে গ্রেফতার হয়েছিলেন), মােহাম্মদ সুলতান, প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম,

আহমদ রফিক (ভাষা আন্দোলনের গ্রন্থ প্রণেতা ও ভাষা সৈনিক) প্রমুখ। উপরােক্ত ভাষা সৈনিক ছাড়াও পূর্ব বাংলার বিভিন্ন স্থানীয় শহর বন্দরে ভাষা আন্দোলন পরিচালনার জন্য সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়েছিল বলে এখানকার প্রায় সকল স্থানে ভাষা সৈনিকরা মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার জন্য ভাষা আন্দোলনে যােগ দিয়েছিল। তাই দেশের সব জায়গায় ভাষা শহীদদের উপস্থিতি ছিল।

দেখুনঃ

বিজয় দিবস অনুচ্চেদ রচনা

স্বাধীনতা দিবস অনুচ্ছেদ রচনা

স্বাধীনতা দিবস অনুচ্ছেদ রচনা

বঙ্গবন্ধুর জীবনী অনুচ্ছেদ রচনা | ছোটদের বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচনা

একুশে ফেব্রুয়ারি শুভেচ্ছা, এসএমএস, উক্তি, বাণী এবং কিছু কথা

একুশে ফেব্রুয়ারি কবিতা, স্ট্যাটাস, ছন্দ, ছবি এবং ক্যাপশন

একুশে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে ১০ টি বাক্য

ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ভাষা সৈনিকদের পরিচিতি

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা, স্ট্যাটাস, উক্তি, বাণী এবং এসএমএস

ভাষা আন্দোলনের শহীদদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস এবং এর গুরুত্ব, তাৎপর্য, রাজনৈতিক পটভূমি, অর্থনৈতিক পটভূমি ও দফাসমূহ

একুশে ফেব্রুয়ারি কবিতা, স্ট্যাটাস, ছন্দ, ছবি এবং ক্যাপশন

Rate this post

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top